মিল্কভিটার বাঘাবাড়ি প্ল্যান্টে অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাৎ

0

মিল্কভিটার  বাঘাবাড়ি কনডেন্স মিল্ক প্লান্ট স্থাপন  প্রকল্পের অর্ধ শত কোটি টাকা আত্মসাতে জড়িত রাঘব বোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এই প্লান্ট গত এক যুগেও উৎপাদনে যেতে পারেনি রহস্যজনক কারণে। পিলে চমকানো এ অনিয়ম অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংস্থার তিন সদস্যের বাছাই কমিটি জালিয়াতি উ ঘাটনে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করছে।  শিঘ্রই অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করবে দুদক। ২০০৮ সালে ততকালিন স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দুদক অনুসন্ধানটি শুরু করলেও বিগত কমিশন রাজনৈতিক প্রভাব ও অদৃশ্য ইশরায় অনুসন্ধান বাছাই পর্যায়েই নথিভুক্ত করে।

সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে পাবনার বাঘাবাড়িতে উদ্বোধন করা হয় মিল্কভিটার কনডেন্স মিল্ক প্লান্ট। ২৪কোটি টাকা ব্যায়ে স্থাপিত ওই প্লান্ট এক যুগেও উৎপাদনে যেতে পারেনি। অন্যদিকে ক্যান মেকিং প্লান্ট স্থাপনের নামে লুটে নেয়া হয়েছে আরো ২৬ কোটি টাকা।

উৎপাদনের পরিবর্তে ২ কোটি টাকায় ক্যান ওয়াশিং মেশিন স্থাপন, প্লান্টের যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, ২২ লাখ টাকায় যন্ত্রাংশ ক্রয়ের  তুঘলকি সিদ্ধান্তে অপচয় হয়েছে অর্ধশত কোটি টাকা। রাজনৈতিক আনুকূল্যে প্রতিষ্ঠানটির ততকালিন মার্কেটিং কমিটির আহ্বায়ক শামসুল আরেফিন প্যাটেল কৌশলে নিজ বেনামী প্রতিষ্ঠান ‘ডায়নামিক করপোরেশন’ বার বার এ প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ সব টেন্ডারকে ‘নন-রেসপনসিভ’ দেখিয়ে ৯ কোটি টাকার কাজের জন্য ১৯ কোটি টাকার কার্যাদেশ বাগিয়ে নেন নিজ প্রতিষ্ঠান ডায়নামিক করপোরেশন’র মাধ্যমে। অরিজিন ইতালির পরিবর্তে বেলজিয়ামের যন্ত্রপাতি সরবরাহের চেষ্টা করায় ১৩ জুন এলসি’র অর্থ নগদায়ন আটকে দেন বাংলাদেশ মিল্ক প্রডিউসার কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লি:র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পরে এ অর্থ সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম নিবন্ধক ও মিল্কভিটার পরিচালক মোমিনুল হক তালুকদার, গোলাম মোস্তফা নান্টু ছাড় করানোর চেষ্টা করেন-মর্মে অভিযোগ ওঠে।

মিল্কভিটার দুর্নীতি অনুসন্ধান প্রসঙ্গে দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল নওরোজকে বলেন, অনুসন্ধানে সব প্রশ্নের জবাব না মিললে একই বিষয়ে আবারো অনুসন্ধান হতে পারে। বর্তমান কমিশন তফসিলভুক্ত যেকোনো দুর্নীতির অনুসন্ধান চালাতে বদ্ধপরিকর।  দুর্নীতির বস্তুনিষ্ঠ অভিযোগের অবশ্যই অনুসন্ধান হবে এবং এর একটি যৌক্তিক পরিণতি দৃশ্যমান  হবে।

এদিকে মিল্কভিটার প্লান্ট স্থাপন, মেরামত ও যন্ত্রাংশ কেনায় বেনামী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচালক শামসুল আরেফিন প্যাটেল বলেন, ‘ডায়নামিক করপোরেশন’র সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

Share.