টাইগারদের থাবায় কুপোকাত ইংলিশরা

12

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টাইগারদের থাবায় কুপোকাত হলো ইংলিশরা। টাইগাররা ইংলিশদের বিরুদ্ধে ৩৪ রানে জয়লাভ করেছে। জয়ের জন্য ২৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ২০৪ রান করে অল আউট হয়।

এর আগে মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৮ রান করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

ব্যাট হাতে শেষ মুহূর্তে ঝড়ের পর বল হাতে শুরুতেই ইংল্যান্ড শিবিরে আঘাত হানেন মাশরাফি। দলীয় ১২ রানের সময় মাশরাফির দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে মোসাদ্দেকের হাতে ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইংল্যান্ড ওপেনার জেমস ভিন্স (৫)।

মাশরাফির পর দ্বিতীয়বারের মতো মিরপুরের গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসের ঢেউ তুলেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডাউনে নামা ইংলিশ ব্যাটসম্যান বেন ডাকেটকে (০) সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান সাকিব।

নিজের চতুর্থ ওভারে টাইগার ক্রিকেট ভক্তদের উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেন মাশরাফি। এই ওভারের পঞ্চম বলে ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়কে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে পাঠান টাইগার অধিনায়ক।

ইনিংসের দশম ওভারে আবারও মাশরাফি চমক। নিজের পঞ্চম ওভারে বল করতে এসে আবারও খুনে চেহারায় মাশরাফি। ইংলিশদের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান বেন স্টোকসকে সরাসরি বোল্ড করে প্যাভলিয়নে পাঠান তিনি। এরপর ক্রিজে ভয়ংকর হয়ে উঠা বাটলার-বেয়ারস্টো জুটি ভাঙ্গেন তাসকিন।  তার তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে  উইকেট রক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে তালুবন্দি হয়ে মাঠ ছাড়েন বেয়ারস্টো। আউট হওয়ার আগে ৫৩ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। সেই সঙ্গে বাটলারের সঙ্গে ৭৯ রানের জুটিতে ছেদ পড়ে।

ইনিংসের ২৭তম ওভারে ইংলিশ তারকা ব্যাটসম্যান মঈন আলীকে ফেরান নাসির হোসেন। এরপর আক্রমনাত্মক হয়ে উঠা জস বাটলারকে ফিরিয়ে ইংলিশদের চাপে ফেলে দেন তাসকিন আহমেদ। ৫৭ রান নিয়ে ক্রিজে থাকা বাটলারকে এলবিডব্লিউ রিভিউ চ্যালেঞ্জে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। ক্রিস ওকসকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করে ইংল্যান্ডকে আরও বেকায়দায় ফেলেন তাসকিন। তাসকিনের ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই মুশফিকের হাতে ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওকস।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। সেই সঙ্গে ছিল সাকিব আল হাসানের ৭৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস। কিন্তু আজ ব্যাট হাতে দলীয় সর্বোচ্চ আশির কোটাও ছুঁতে পারেননি বাংলাদেশি কেনো ব্যাটসম্যান।

মিরপুরে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয় ওপেনিং থেকেই। দলীয় ২৫ রানের সময়ই ব্যক্তিগত ১১ রান করে ওকসের বলে সাজঘরে ফেরেন গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল কায়েস। এরপর দলের রানের সঙ্গে এক রান যোগ হতেই ১৪ রানে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন তামিম ইকবাল।

ওপেনারদের ব্যর্থতার পর প্রতিরোধ গড়তে পারেননি ওয়ানডাউনে নামা সাব্বির রহমান। ব্যক্তিগত মাত্র ৩ রান করে গত ম্যাচে অভিষেক হওয়া জেইক বলের বলে বোল্ড হন তিনি। মিডলঅর্ডারের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংসটি আসে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে। ৮৮ বল মোকাবেলায় ৬ চারে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ  ৭৫ রান করেন তিনি।

তবে মাহমুদউল্লাহকে আর কেউ সেভাবে সার্পোট দিতে না পারায় অনেকটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। মুশফিক হাল ধরতে গিয়েও ২১ রানে জ্যাক বলের শিকার হন। এরপর স্বপ্ন দেখিয়ে ২৯ রানে ফেরেন মোসাদ্দেকও।

Share.