কলকাতায় পালিত হলো মহান একুশে

0
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কলকাতা উপ হাইকমিশনের উদ্যোগে প্রভাতফেরির আয়োজন করে। কলকাতা, ভারত, ২১ ফেব্রুয়ারি। ছবি: ভাস্কর মুখার্জিকলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়েছে ১৯৫২ সালে বাংলাদেশে মাতৃভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের।

কলকাতার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে নানা অনুষ্ঠানের। এ ছাড়া ত্রিপুরা, বিহার, ঝাড়খন্ড, ওডিশা, ছত্তিশগড়সহ বিভিন্ন রাজ্যের বাংলাভাষীরা হাতে নেয় নানা কর্মসূচি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতার একাডেমি অফ ফাইন আর্টস চত্বরের রাণুছায়া মঞ্চে আয়োজন করা হয় ভাষা দিবসের নানা অনুষ্ঠানের। ভাষা চেতনা সমিতি আয়োজিত এই অনুষ্ঠান এবার ২২ বছরে পা দেয়। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ত্রিপুরা, ঝাড়খন্ড ও আসাম থেকে যোগ দিয়েছেন ২০০ শিল্পী। বিকেল ৫টা থেকে আজ শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত একুশ উদ্‌যাপনে চলে কবিতা, গান, নাটক ও নাচের অনুষ্ঠান। রাত ১২টা এক মিনিটে করা হয় মশাল প্রজ্বলন।

আজ কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন গ্রন্থাগার থেকে বের হয় প্রভাত ফেরি। এতে পা মেলান কলকাতার বিশিষ্টজনেরা। এরপরেই উপহাইকমিশনে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। এদিন বাংলাদেশের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বিকেলে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এতে যোগ দেন কলকাতার শিল্পীসহ বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। যোগ দেন জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও নেপালের প্রতিনিধিরা। এখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাঁদের মাতৃভাষায় আবৃত্তি করেন, সংগীত পরিবেশন করেন।

কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটারিয়াম চত্বরে নির্মিত ভাষা শহীদ উদ্যানের শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ অন্যান্যরা। পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয় কলকাতার কার্জন পার্কে অবস্থিত ভাষা উদ্যানের শহীদ স্মারকে।

কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী এবং শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনটি পালিত হয় সাড়ম্বরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আলপনা আঁকেন সড়কে। আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, প্রভাতফেরি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রীরা সকালে প্রভাত ফেরি বের করে। প্রভাতফেরি শুরু হয় আন্তর্জাতিক হোস্টেল থেকে, শেষ হয় বাংলাদেশ ভবনে। এখানের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানান বিশ্বভারতীর শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকেরা। এরপরে বাংলাদেশ ভবনে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

শান্তিনিকেতনে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরাও প্রভাত ফেরিতে অংশ নিয়ে খালি পায়ে শহীদদের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। বাংলাদেশ ভবনের সামনে আলপনা আঁকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এখানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় সংগীত পরিবেশন করেন।

কলকাতার বেলেঘাটা মোড়, মধ্যমগ্রাম চৌমাথায় ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ধাঁচে গড়া শহীদ মিনারেও এদিন শ্রদ্ধা জানান ভাষা প্রেমিকেরা। এ ছাড়া কলকাতাসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহর এবং গ্রামের স্কুল কলেজেও দিনটি পালিত হয় যথাযোগ্য মর্যাদায়।

পশ্চিমবঙ্গ-ভারত সীমান্তের বেনাপোল-পেট্রাপোলে দিনটি পালিত হয় সাড়ম্বরে। এখানে দুই দেশের ভাষা প্রেমিকেরা আয়োজন করে একুশের অনুষ্ঠানের। পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুরের বালুরঘাট সীমান্তে এবং আলিপুরদুয়ার সহ পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র দিনটি পালিত হয় মহাসমারোহে।

ভাষাসৈনিক বরকতের গ্রাম মুর্শিদাবাদের বাবলা গ্রামেও দিনটি পালিত হয় সাড়ম্বরে। সকালে অনুষ্ঠিত হয় প্রভাতফেরি। বিকেলে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

Share.